
জাহীদ রেজা নূর
জাহীদ রেজা নূর
সকল লেখা

একটি স্বপ্নের মৃত্যু
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে যে ঘটনাগুলো ঘটেছিল এবং এরপর তা যে খাতে প্রবাহিত হয়েছিল, তা নিয়ে বহুদিন ধরে বিতর্ক চলবে। চব্বিশ সালের মাঝামাঝি সময় যে ঘটনাবলিকে বিপ্লব না গণ-অভ্যুত্থান বলা হবে, তা নিয়ে ভাবছিল মানুষ, তারাই এই ২০২৬ সালে এসে ওই ঘটনার নানা ধরনের ব্যাখ্যা দিচ্ছেন।

সুখবর কি আছে কোনো
বাজেট এবং বিশ্বকাপের জন্য সামনের বড় একটা সময় উত্তাপ থাকবে। এবার বিশ্বকাপের উত্তেজনা কতটা সৌরভ ছড়াবে, তা এখনই বলে দেওয়া যাচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ বাস্কেট বল কিংবা লন টেনিস নিয়ে যতটা আগ্রহ দেখায়, ফুটবল নিয়ে ততটা নয়। তারপরও তারা অন্যতম আয়োজক দেশ হয়েছে।

যুদ্ধ বন্ধ করতে ইউরোপ কি এগিয়ে আসবে
সেই যে ২০২২ সালে শুরু হলো রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, তার আর অবসান হচ্ছে না। রাশিয়া একসময় ভেবেছিল, তাদের সশস্ত্র আক্রমণ ইউক্রেনকে কুপোকাত করবে খুব দ্রুত। কিন্তু সে রকম ঘটনা ঘটেনি। যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপীয় দেশগুলো ইউক্রেনকে সামরিক সাহায্য থেকে শুরু করে নানা ধরনের সহযোগিতা করে এসেছে।

মৃতদের ভিড়ে জীবিত নিউইয়র্ক টাইমস
পত্র-পত্রিকার প্রতি যে আকর্ষণ বা আগ্রহ ছিল গত শতাব্দীতে, তা এখন তলানিতে এসে ঠেকেছে। বিশেষ করে প্রিন্ট মিডিয়া নামক সংবাদপত্রের ব্যবসা লাটে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে সারা বিশ্বেই। তথ্য সংগ্রহের উপায় বেরিয়েছে অনেক রকম। তাই ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে টাটকা কাগজে ছাপা হওয়া সংবাদের প্রতি আকর্ষণ।

রাজনীতি মোকাবিলা করতে হবে রাজনীতি দিয়েই
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগকে নিয়ে কেন এত ভয় চব্বিশের সাহসী অভ্যুত্থানকারীদের? রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে তো মোকাবিলা করতে হয় রাজনীতি দিয়েই। ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার অবশ্য সেটা করেনি। তাদের শাসনামলের দেড় বছর এমন সব নির্মমতার জন্ম দিয়েছে, যা স্বল্প সময়ে নির্যাতনের সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছে কি না...

বিশ্বজুড়ে ডানপন্থার উত্থান
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের ফলাফলই এখন আমাদের দেশে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে। বিজেপি এ রকম ভূমিধস বিজয় পাবে, তা সম্ভবত বিজেপি দলটিও ভাবেনি। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল? তৃণমূল কংগ্রেস যেন বানের জলে ভেসে গেছে। নির্বাচনের আগে অনেকেই ভেবেছিলেন, বাম দলগুলোর প্রতি জনগণের সমর্থন বাড়বে...

একাত্তরে পত্রিকাগুলো কী লিখছিল
এবারের জাতীয় সংসদে অভিনব নানা ঘটনা ঘটেছে। গণ-অভ্যুত্থানের পর যে সংসদটি গঠিত হলো, তাকে ‘আমরা আর মামুরা’ ধরনের সংসদ কি না, তা নিয়ে মুখরোচক আলাপ-আলোচনা হচ্ছে এখন। কেউ কেউ বলছেন, মাঝে মাঝে মুক্তিযুদ্ধ প্রশ্নে সংসদকে উত্তপ্ত করার বিষয়টি লোকদেখানো।

আওয়ামী লীগ, মুজফ্ফর আহমদ ও কালো আইন
রাজনীতির মাঠটা আবার সরগরম হয়ে উঠবে বলে মনে হচ্ছে। ইতিহাস থেকে কেউ শিক্ষা নেয় না—এই কথাটি তো মিথ্যে নয়। ইউনূস সরকার আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছিল, সংসদে বিল পাস করে সেটাকে পোক্ত করল ক্ষমতাসীন বিএনপি। কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা উচিত কি না, তা নিয়ে বিস্তর কথাবার্তা হয়েছে আগে।

এবারের স্বাধীনতা দিবসে আমাদের চাওয়া
স্বাধিকার আন্দোলনটি ছিল গোটা জাতির। এ কথা না বোঝার কোনো কারণ নেই যে পাকিস্তানি শাসকদের শোষণ ও ঘৃণার শিকার হয়েছিল সে সময়ের পূর্ব বাংলার মানুষ। পাকিস্তানি জেনারেলদের বইগুলো পড়লেই পরিষ্কার হবে, বাঙালি সম্পর্কে কত ধরনের উদ্ভট ধারণা ছিল তাদের। সবচেয়ে বড় যে সংকটটি ছিল, তা হলো, পশ্চিম পাকিস্তানিরা...

ঐতিহাসিক ৭ মার্চ জাতির উজ্জ্বলতম দিন
৭ মার্চকে হটিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল বিগত ইউনূস সরকার। ৭ মার্চের জাতীয় ছুটিও বাতিল করা হয়েছে। কিন্তু তাতে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চে যা ঘটেছিল, তা কি উধাও হয়ে যাবে ইতিহাস থেকে?

আমাদের ভাষার সংগ্রাম ও বর্তমান সময়-২
ভাষা নিয়ে আন্দোলন করতে গিয়েই পূর্ব বাংলার মানুষ উপলব্ধি করেছিল, শোষকের কোনো ধর্ম নেই। যেকোনো ধর্মের মানুষই শোষক হতে পারে। আগে ব্রিটিশরা শোষণ করেছে, এরপর এল পাকিস্তানিরা। তাদের ধর্ম আলাদা, কিন্তু শোষণের রূপ একই।

নতুন করে পুরোনো ভাবনা
ছোট ছিলাম যখন, তখন শোনা কথাগুলোকে অমূল্য মনে হতো। বুঝে না-বুঝে প্রচলিত কথাগুলোকেই বিশ্বাস করতাম। বয়স বাড়তে লাগল, বুঝতে পারলাম, জীবনে এমন অনেক কিছুই আছে, যা আদর্শবাদের সঙ্গে যায় না। বাস্তব একেবারে অন্য কিছু।

বিশ্বজুড়ে ডানপন্থার উত্থান
একবিংশ শতাব্দীর প্রথম ভাগে এসে বিশ্বজুড়ে চরম ডানপন্থার উত্থান ঘটছে কেন? পৃথিবীটা যেন তেতে আছে। যেকোনো মুহূর্তে যেকোনো জায়গায় লাগতে পারে আগুন, যেকোনোভাবে জনগণকে উত্তেজিত করে আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে দেওয়া যেতে পারে। নিজের ভাগ বুঝে নেওয়ার জন্য অন্যের সমূহ ক্ষতি করাও হয়ে উঠেছে আদর্শিক অবস্থান...

নির্বাচন: কি এক কৌতুককর অবস্থা!
লেখার শিরোনাম দেখেই যদি কেউ ভেবে থাকেন, এখানে অমূল্য রতন পেয়ে যাবেন, তাহলে ভুল করবেন। ফেব্রুয়ারি আর এপ্রিল নিয়ে এমন এক গাড্ডায় পড়েছে নির্বাচন যে, কোনো ধরনের ভবিষ্যদ্বাণী করার শক্তি কারও নেই। বিএনপির হাতে মুলা ধরিয়ে দিয়ে এই সরকারই আরও অনেক দিন ক্ষমতায় থাকার বাসনা পোষণ করছে কি না...

ট্রাম্পের তেলেসমাতি ও যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ
ঈদের দিনই বুঝি, আগুন লাগল লস অ্যাঞ্জেলেসে। আগুন মানে আক্ষরিক অর্থে আগুন নয়, অবৈধভাবে বসবাসকারী সাধারণ মানুষকে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার শুরু করলে সাধারণ মানুষই দাঁড়িয়ে গেল পুলিশের বিরুদ্ধে। ইচ্ছে হলেই যে কাউকে যেকোনো জায়গা থেকে গ্রেপ্তার করে নেওয়ার যে খেলা শুরু করেছিল সরকার, তার বিরুদ্ধেই এই প্রতিবাদ।

হাদিস পার্কে রাজনীতির আলাপ
ঘটনাবলি এত দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে যে কোন ঘটনার সঙ্গে কোন ঘটনাকে মিলিয়ে একটা যুক্তিসংগত সিদ্ধান্তে আসা যাবে, তা একেবারেই বোঝা যাচ্ছে না। কে কার পক্ষ নিচ্ছে এবং কে কোন পক্ষ থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নিচ্ছে, সেটাও প্রশ্নসাপেক্ষ। এ রকম একটি অবস্থায় মূল ঘটনাগুলো থেকে একটু দূরে দাঁড়িয়ে বিষয়গুলো সম্পর্কে
